সর্বশেষ

শৈলকুপার সেই আলোচিত নারী তানিয়ার জামিন হয়নি

শৈলকুপার সেই আলোচিত নারী তানিয়ার জামিন হয়নি

শৈলকুপার ট্রাক ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলাম লিপটন (২৬) কে পরিকল্পিত ভাবে গুম করা মামলায় শৈলকুপার আলোচিত নারী সহকারী শিক্ষিকা শারমিন আক্তার তানিয়াকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার তিনি ঝিনাইদহের একটি আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিতে গেলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নামনজুর করেন। বাকী ৮ আামীকে জামিন দেন। এর আগে পিবিআইর তদন্তে লিপটনকে গুম করার ঘটনাটি উন্মোচন করে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার সুপারিশ করেন। আদালতের আদেশে শৈলকুপা থানায় লিপটন গুম মামলা রেকের্ড হয়। মামলা রেকর্ড হওয়ার পর তানিয়াসহ অন্যান্য আসামীরা উচ্চ আাদালত থেকে ৪ সপ্তার জামিন নেন। মঙ্গলবার ঝিনাইদহ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আসামীরা প্রার্থনা করলে আদালত ৮ আসামীকে জামিন দিয়ে প্রধান হোতা আসামী তানিয়াকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জানা গেছে পিবিআইর তদন্তের পর মামলার বাদী নিখোঁজ লিপটনের পিতা আব্দুল খালেক গত ২৭ জুলাই ৯ জনকে আসামী করে বিচারক কাজী আশরাফুজ্জামানের আদালতে একটি পিটিশন মামলা (০৩/১৮) দায়ের করেন। এই মামলায় প্রধান আসামী করা হয় শৈলকুপা বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শারমিন আক্তার তানিয়াকে। এ ছাড়া কিত্তিনগর গ্রামের শিহাবুল, মাঠপাড়ার মোজাহার মন্ডলের ছেলে শহিদুল, ঈশ্বরদীর কৈকন্ডা গ্রামের আমেজ প্রমানিকের ছেলে নজরুল ইসলাম, চরপাড়ার আফিল উদ্দীনের ছেলে জমির উদ্দীন, ধুলিয়াপাড়া গ্রামের আকুলের ছেলে পলাশ, কেষ্টপুর গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে রিপন, কোর্টপাড়ার ফিরোজ খানের ছেলে সুমন খান ও জামশেদপুর গ্রামের এলাহী মন্ডলের ছেলে ফজলুর রহমানকে আসামী করা হয়। ঝিনাইদহ পিবিআইর এসআই গাবুর আলী সরদার একাধিক সাক্ষির সাক্ষ্য শেষে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আসামী শারমিন আক্তার তানিয়ার সাথে নিখোঁজ লিপটনের পরকীয়া ছিল। সেই সুত্র ধরে লিপটন তানিয়ার বাড়িতে যাতায়াত করতো। নিখোঁজ হওয়ার দিন ও পরে তানিয়া তার ইটভাটার সরদার নজরুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তির সাথ মোবাইলে কথা বলেন। বিষয়টি রহস্যজনক। কারন ইটভাটার সরদার নজরুলের কাছে কোন দিন তানিয়া কথা বলেন নি। ঘটনার দিন ৪ জানুয়ারী রাত ১০টার দিকে তানিয়া ফোন করে সরদারকে বলেন, কোন লোক যাতে বাইরে না যায় সে দিকে খেয়াল রাখতে। পর দিন লোকমুখে ভাটা সরদার জানতে পারে লিপটন নিখোঁজ হয়েছে। এতে প্রমানিত হয় লিপটনকে ইটভাটায় পুড়িয়ে মারা হয়েছে। বাদী আব্দুল খালেক অবিযোগ করেন, লিপটনের নিজের নামে দুইটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রা-ট-১৮-৮৪৫৭ ও ঝিনাইদহ-ট-১১-১২৯৪) আত্মসাত করার জন্য তানিয়া তাকে ইটভাটার আগুনে পুড়িয়ে খুন করেছে। লিপটন নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার দুইটি ট্রাকের ভাড়া আদায় করছেন তানিয়া। ট্রাক দুইটি এখনো পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে।

মন্তব্য করুন