সর্বশেষ

শেরপুর, নালিতাবাড়ী

নিরাপত্তার অজুহাত - দেয়াল বন্দী ১১টি পরিবার

 নিরাপত্তার অজুহাত - দেয়াল বন্দী ১১টি পরিবার
ছবি - সংগৃহীত

 শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে নিরাপত্তার অজুহাতে ইটের প্রাচীর তোলে অবরুদ্ধ করা হয়েছে ১১টি পরিবারের নারী-পুরুষ-শিশু ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের। গর্ভবতী নারী ও স্কুলগামী শিশু-কিশোরসহ ওইসব পরিবারের সদস্য সংখ্যা পঞ্চাশের উপরে। এমন অমানবিক ঘটনা ঘটেছে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী বাজারস্থ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে।


জানা গেছে, সম্প্রতি নন্নী-পোড়াগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পূর্ব ও উত্তর পাশে ইটের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। ভূমি অফিসটির ওই দুই দিকেই সবমিলে ১১টি পরিবার বসবাস করে। যেসব পরিবারে শিশু ও কিশোরের সংখ্যা ১৩ জনের মতো। অসুস্থ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ছাড়াও রয়েছে গর্ভবতী নারীসহ সবমিলে প্রায় পঞ্চাশের উর্ধ্বে মানুষ। যাদের বাড়ির তিন দিকে অন্যের মালিকানাধীন নিচু জমি। যেখান দিয়ে চলাচলের কোন রাস্তা নেই। ফলে ওইসব বাড়িতে বসবাসকারীরা চলাফেরা করত ইউনিয়ন ভূমি অফিস চত্বর দিয়ে। কিন্তু ওইসব পরিবারের চলাচলের কথা না ভেবেই সম্প্রতি ইটের সীমানা প্রাচীর তোলে তাদের অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ফলে দুই পাশে দুইটি মই দিয়ে ইটের প্রাচীর টপকে চলাচল করতে হচ্ছে বাড়িগুলোর স্কুলগামী শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী ও অন্যদের। মই বেয়ে প্রাচীর টপকাতে গিয়ে অনেকেই ইতিমধ্যেই পড়ে গিয়ে আহতও হয়েছেন।


এদিকে ভূমি অফিসটির সামনের এবং পশ্চিম পাশের অংশে কোন দেয়াল বা গেইট পর্যন্ত এখনও করা হয়নি। উপরন্তু পশ্চিম পাশের ‘খ’ তফসিলভুক্ত জমিটি স্থানীয় কয়েকটি রবিদাস পরিবারের দখলে রয়েছে। রয়েছে পার্শ্ববর্তী ঝিনাইগাতি উপজেলাধীন কয়েকটি গ্রামে চলাচলের রাস্তা। ভূমি অফিসের ভিতর দিয়ে ওই রাস্তায় প্রতিদিন শত শত পথচারী আনাগোনা করলেও শুধুমাত্র উত্তর ও পূর্ব পাশের ১১টি পরিবারকে অবরুদ্ধ করেই ইটের প্রাচীর তোলে নেওয়া হয়েছে সরকারি অফিসের নিরাপত্তা!


সূত্রে আরো জানা গেছে, প্রাচীর নির্মাণের সময় অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর পক্ষে চলাচলের রাস্তা দাবি করা হলেও কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি। এতে ওইসব পরিবারের পক্ষে ইয়াকুব আলী শেরপুরস্থ নালিতাবাড়ীর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেছেন। মোকদ্দমার প্রেক্ষিতে আদালত শেরপুরের জেলা প্রশাসক, নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার ভূমি নালিতাবাড়ী ও ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছেন।


ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্য মোখলেছুর রহমান জানান, আমরা ইউনএনও ও এসিল্যান্ড স্যারের কাছে চলাচলের রাস্তা চেয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা মামলা তোলে নেওয়ার শর্তে সাময়িক রাস্তা দিতে চান। আমরা সে শর্ত মানিনি বলে রাস্তাটি একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


ভোক্তভোগী শিশু শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা স্কুল-মাদরাসায় যেতে পারি না। মই দিয়ে ইটের দেয়াল টপকে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই পা পিছলে পড়ে যাই। আমাদের ভয় হয়। স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হোসেন জানান, অন্যপাশের জমি অন্যদের দখলে থাকলেও শুধুমাত্র ওই ১১টি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ করে ইটের প্রাচীর করা অমানবিক।


স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান একেএম মাহবুবুর রহমান রিটন বিষয়টি অমানবিক দাবি করে জানান, একজন মানুষ মারা গেলে তার লাশ আনতে গেলেও ইটের দেয়াল টপকে আনতে হবে। তাই বিষয়টিতে সরকারকে মানবিক বিবেচনায় আনার দাবি জানাচ্ছি।ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র সাহা মতামত দিতে অপারগতা প্রকাশ করে জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।


নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, ভূমি অফিস একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিস। অফিসের ভিতর দিয়ে ব্যক্তিগত রাস্তা দেওয়ার নিয়ম নেই। এখানে নিরাপত্তার বিষয় আছে। তবে আমি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেছি আপনি ওই ১১ পরিবারের সাথে বসে দেখেন বিকল্প কোন রাস্তা বের করা যায় কি না।

মন্তব্য করুন