সর্বশেষ

যশোর, অভয়নগর

১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতালটি ৫ বছর ধরে উদ্বোধনের অপেক্ষায়

১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতালটি ৫ বছর ধরে উদ্বোধনের অপেক্ষায়

যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায় বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সিংগাড়ী গ্রামে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৪ সালের ৬ জানুয়ারি। হাসপাতাল থেকে দ্রুত সেবা পাওয়া যাবে- এলাকার মানুষ এ আশায় বুক বাঁধে। কিন্তু পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে হাসপাতালটি। ফলে উপজেলার চার ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের ভেতর ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।


জানা গেছে, মা ও শিশু হাসপাতালটি নির্মাণের লক্ষ্যে সিংগাড়ী গ্রামের শেখ নাদের হোসেন, শেখ মুনতাজ হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক শেখ প্রায় কোটি টাকা মূল্যের এক একর সম্পত্তি দান করেন।


খুলনার ছোট বয়রার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনিস অ্যান্ড কোং মা ও শিশু হাসপাতালের কার্যাদেশ পায়। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু করে ২০১৪ সালের ৬ জানুয়ারি কাজ শেষ করে তারা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ শেষ করে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ২০১৪ সালের ২০ মার্চ হস্তান্তর করে। সে সময়ে কাজটি হস্তান্তর করলেও কোনো জনবল নিয়োগ করা হয়নি। যে কারণে নির্মাণের পর থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে মা ও শিশু হাসপাতালটি।


যশোরের অভয়নগর উপজেলার চারটি ইউনিয়নকে ভৈরব নদ বিভক্ত করে রেখেছে। নদের কারণে ভৈরব-উত্তর জনপদের শ্রীধরপুর, বাঘুটিয়া, শুভরাড়া, সিদ্দিপাশা ইউনিয়নের লোকজন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় তৎকালীন হুইপ অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাবের প্রচেষ্টায় ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। এক একর জমির ওপর পাঁচ কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার ৬৮৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ১০ শয্যা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক মা ও শিশু হাসপাতাল।


একটি চিকিৎসক কোয়ার্টার, একটি নার্স কোয়ার্টার এবং ১০টি বেড থাকতে পারবে- এমন একটি অত্যাধুনিক দ্বিতল ভবন নির্মাণের প্রায় পাঁচ বছর হলেও সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো ভূমিকা না থাকায় এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।


জমিদাতা শেখ মুনতাজ হোসেনের ছেলে মো. আমজাদ শেখ বলেন, এক বছর আগে যশোর থেকে একজন এবং নওয়াপাড়া সরকারি হাসপাতাল থেকে একজন এসে মূল গেটের তালা খুলে ভেতরে দেখে যান। এরপর আর কোনো খবর আমরা পাইনি।


সাবেক হুইপ শেখ আব্দুল ওহাবের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ভৈরব উত্তর-পূর্ব জনপদের এবং দক্ষিণ নড়াইলের হাজার হাজার সাধারণ মানুষের চিকিৎসার কথা বিবেচনা করেই আমি এই হাসপাতালটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বারবার মন্ত্রণালয়ে তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও মা ও শিশু হাসপাতালটি চালু হচ্ছে না।


অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মনজুর মোর্শেদ বলেন, বর্তমানে সিংগাড়ী মা ও শিশু হাসপাতালটি স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে রয়েছে। অচিরেই হাসপাতালটি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে হস্তান্তর করা হবে এবং দ্রুত চালু হবে বলে আশা করছি। যশোরের সিভিল সার্জন দিলীপ রায় বলেন, মন্ত্রণালয়ে একটি মিটিংয়ে হাসপাতালটি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা দিকনির্দেশনা দিলেই হন্তান্তর করা হবে। 

মন্তব্য করুন