সর্বশেষ

৫২জন শিক্ষকের পদত্যাগপত্র জমা

টাঙ্গাইলে ভাসানী বিশ্বদ্যিালয়ের ছাত্রলীগের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত

টাঙ্গাইলে ভাসানী বিশ্বদ্যিালয়ের ছাত্রলীগের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ কর্তৃক জোর করে পরীক্ষা দেয়ানোর সময় শিক্ষকরা বাধা দিলে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের চার নেতার বিরুদ্ধে বিশ্বদ্যিালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের কাছে তাৎক্ষণিক বিচার না পাওয়ায় সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ৫২ জন শিক্ষক পদত্যাগ পত্র বিশ্বদ্যিালয়ের রেজিস্ট্রার ড. তৌহিদুল ইসলামের কাছে জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ২ জন রিজেন্ট বোর্ড সদস্য, ৪ জন ডীন, ৪ জন প্রভোস্ট, ১৪ জন বিভাগীয় চেয়ারম্যান, সকল হাউজ টিউটর, সকল সহকারী প্রক্টরসহ ৫২ জন।


জানা যায়, রোববার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে কোয়ান্টাম মেকানিক্স-১ পরীক্ষায় বিভাগের পক্ষ থেকে অনুমোদন না দেয়ার পরেও জোর করে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে ছাত্রলীগ । পরীক্ষায় ফলাফল ১ দিন আগে ঘোষণা করায় একে অধ্যাদেশ বিরোধী উল্লেখ করে ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার তার সহযোগীদের নিয়ে ঈশিতার পক্ষ হয়ে তাকে জোর পূর্বক পরীক্ষার সিটে বসিয়ে দেয়। বিভাগের শিক্ষকরা এ বিষয়ে বাধা দিতে গেলে সজীব তালুকদার উক্ত বিভাগের চেয়ারম্যান ও উক্ত বিভাগের শিক্ষক ড. আনোয়ার হোসেন ও মহিউদ্দিন তাসনিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও তাদের লাঞ্ছিত করে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঈশিতাকে পাহারা দিয়ে সম্পূর্ণ পরীক্ষা শেষ করায়।
এদিকে শিক্ষক লাঞ্চনার ঘটনায় বিকাল ৪ টার দিকে জরুরী সভা ডাকে শিক্ষক সমিতি। সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার, সহ-সভাপতি ইমরান মিয়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাবির ইকবাল ও সহ-সভাপতি আদ্রিতা পান্নার বিচারের দাবি জানানো হয়। মাভাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি ও ১৫ জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত ভাইস চ্যান্সেলর বরাবর দুইটি আবেদনে এই চার জনের বিচারের দাবি জানানো হয়। পরে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ভাইস চ্যান্সেলরের কক্ষে ছাত্রলীগ ও শিক্ষকদের নিয়ে সভা করা হয়। সভার এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ বের হয়ে এসে প্রতিটি হল থেকে ছাত্র-ছাত্রী বের করে অর্ডিন্যান্স পরিবর্তনের আন্দোলন শুরু করে। রাত সাড়ে ১০টার দিক থেকে ৩ টা পর্যন্তএ আন্দোলন চলে।
এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন বলেন, আমরা শিক্ষকদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় সঠিক বিচার না পাওয়ায় সোমবার দুপুরের দিকে শিক্ষককরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। আমরা এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছি।
এ ব্যাপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের ড. মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বিকেল ৫টায় রিজেন্ট বোর্ডের সভায় এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


 

মন্তব্য করুন