সর্বশেষ

তানোর ,রাজশাহী

রাজশাহীর মোহনপুরে মাদকের হাট

রাজশাহীর মোহনপুরে মাদকের হাট

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোর ও মোহনপুর উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন ঘাষিগ্রাম ইউপির কালীতলা ও আতানারায়নপুর গ্রামে বসছে মাদকের হাট হচ্ছে মাদকের জম্পেশ বাণিজ্য মাদকের ক্রেতা হচ্ছে এলাকার কিশোর-তরুণ ও উঠতি বয়সের যুবক। আর মাদক কারবারির কারণে এলাকায় বেড়েছে চুরি-ছিনতাই ঘটেছে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি। সচেতন মহল ও অভিভাবকগণ তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে চরম দুঃচিন্তায় রয়েছে। এদিকে মাদক বাণিজ্যর বিরুদ্ধে গ্রামবাসী ফুঁসে উঠেছে মাদকব্যবসায়ী ও গ্রামবাসী মূখোমূখি অবস্থানে রয়েছে মাদকবাণিজ্য কেন্দ্র করে যেকোনো সময় খুন-জখম বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে এই আশঙ্কায় গ্রামের মানুষ সঙ্কিত হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, রাজশাহী জেলা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও মোহনপুর থানা পুলিশকে একাধিকবার অবগত করা হলেও এখানো মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। তবে বিভিন্ন এলাকা থেকে আশা মাদকসেবীদের আটক করে তাদের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের বিরুদ্ধে গুঞ্জন রয়েছে। সচেতন মহল ও অভিভাবকগণ আর্মস ব্যাটেলিয়ান পুলিশ ও র‌্যাপিড এ্্যাকশান ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)-এর নিয়মিত টহল ও অভিযানের দাবি করেছে। আবার প্রকাশ্যে মাদকের বাণিজ্য হওয়ায় স্থানীয় সাংসদ আয়েন উদ্দীন ও ঘাষিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন বাবলুর সুনামক্ষুন্ন ও ইমেজ সংকট তৈরী হচ্ছে বলে সাধারণ মানুষের অভিমত এবং প্রশ্ন উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীর খুঁটির জোর কোথায় তা নিয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসি জানান, থানা পুলিশ ম্যানেজ করে জনৈক আকতার হোসেন তার সহযোগীর মাধ্যমে এসব মাদকের ব্যবসা গোপণে অনুসন্ধান করলেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে বলে তারা দাবি করেছেন।
জানা গেছে, রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ঘাষিগ্রাম ইউপির কালীতলা ও আতানারায়নপুর গ্রামে হাত বাড়ালেই মিলছে ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইন প্রকাশ্যে দিবালোকে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কালীতলা ও আতানারায়নপুর গ্রামে বহিরাগত প্রায় সগস্রাধিক মোটরসাইকেল আরোহীর আগমণ ঘটছে যারা মাদকসেবী। এসব মোটরসাইকেল আরোহীদের অনুসরণ, দেহতল্লাশী বা আটক করলেই মাদক সিন্ডিকেটের গডফাদারের নাম জনসম্মূক্ষে প্রকাশ হবে। অথচ থানা পুলিশের কোনো নজরদারী নাই বরং অনেকক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে সহযোগীতার অভিযোগ উঠেছে। আবার গ্রামবাসী বলছে, থানা পুলিশের সহযোগীতা ব্যতিত বিনা বাধায় প্রকাশ্যে দিবালোকে এভাবে মাদকের কেনা-বেচা করা সম্ভব নয়। বিকাশে অথবা হাতে টাকা দিয়ে ঠিকানা বলে দিলে তারা সেখানে মাদক পৌচ্ছে দিচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চলতি বছরের ৮ অক্টোবর সোমবার দুপুরে গ্রামের ডিস এ্যান্টেনার ঘরে মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে গ্রামের কয়েকজন যুবকের মধ্যে মারপিট ও ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া দেয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগ, এসব মাদক দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে পুলিশের নেপথ্যে সহায়তায় এমনকি উপস্থিতিতে, পুলিশ মাসিক মাসোয়ার নিয়ে অবৈধ মাদক ব্যবসার বৈধতা দিচ্ছে বলেও জনমনে প্রচার রয়েছে। বিনা বাধায় খুব সহজে ও হাতের নাগালে এসব মাদকদ্রব্য পাওয়ায় আশঙ্কাজনক হারে যুবসমাজ মাদকাশক্ত হয়ে পড়ছে। রাজশাহীর মোহনপুর ও তানোরের বিভিন্ন এলাকার যুব-সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আর মাদকের টাকা সংগ্রহ করতে অধিকাংশই জড়িয়ে পড়ছে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ডে। ফলে এলাকায় ঘটছে আইনশৃঋলার অবনতি পরিবারে নেমে আসছে অশান্তি। পুলিশের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারির যোগসাজশে মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় নির্বিঘেœ তাঁদের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, এসব মাদকের বেশিরভাগ আসে ভারত থেকে চোরাই পথে ও পুলিশের হাতে আটক বিভিন্ন ধরণের মাদক এই মাদক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বিক্রি করা হয়ে থাকে। পুলিশের অসাধূ কর্মকর্তা-কর্মচারী রাজশাহী কোর্ট এলাকার কিছু মাদক বিক্রেতা তাদের কাছে এসব মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে। গতকাল সরেজমিন কালীতলা ও আতানারায়নপুর গ্রামে দেখা গেছে, তানোর ও মোহনপুরের বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি মোটর সাইকেল অবস্থান করছে। আর এসব মোটর সাইকেল আরোহী সকলেই খোলামেলা ভাবে ফেন্সিডিল সেবন করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত্রি পর্যন্ত চলছে মাদকদ্রব্যর বেচাকেনা। মাদক ব্যবসায়ীদের এই অপতৎপরতা দেখে এলাকার অভিবাবকরা তাদের সন্তান ও ভবিষৎ প্রজন্মদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। মাদকের নেশার ফাঁদে পা বাড়াচ্ছে এলাকার ভালো পরিবারের শিক্ষিত যুবকেরা। এদের মধ্য কেউ কেউ আবার নেশার খরচ যোগাতে জমি বিক্রি করছে চুরি ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।


 

মন্তব্য করুন