সর্বশেষ

জনভোগান্তি

সন্ধ্যা নামলে বাড়তি ভাড়া পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে

সন্ধ্যা নামলে বাড়তি ভাড়া পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা এবং রাত ১২টা পর্যন্ত পটিয়া সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া দ্বিগুন থেকে তিনগুন আদায় করছে। যাত্রীবাহী বাস, হাইস, মাইক্রোবাসের চালক-কর্মচারীরা। দীর্ঘ সময় ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও ট্রাফিক বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পন্ন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এতে করে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। নতুন ব্রীজ থেকে পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়ার কেরানীহাট পর্যন্ত মাঝপথে যাত্রীদের স্বাভাবিকের দ্বিগুন থেকে তিনগুন ভাড়া গুনতে হয়। বিকলে তথা সন্ধ্যা নামলে এই দৃশ্য প্রতিদিনের। নির্ধারিত ভাড়া উপক্ষো করে সরকারী ছুটির দিন এবং বৃহস্পতিবার-শুক্রবার আসলে সে ভাড়া তিনগুন চারগুন আদায় করছে যাত্রীবাহী, হাউস, মাইক্রোবাসের চালক ও হেলপাররা।
এ ব্যাপারে ট্রাফিক বিভাগের কোন মাথা ব্যাথা নাই বললেই চলে। বিকেল থেকে নতুন ব্রীজ এলাকার ঘরমুখো হাজার হাজার মানুষ দেখা যায়। কিন্তু হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা তাদের নিদিষ্ট চাঁদা আদায়ে ব্যাস্থ সময় পার করে। বাস চালক-কর্মচারীরা কর্ণফুরী নতুন ব্রীজ এলাকায় সরকার দলীয় একটি সিন্ডিকেট কর্তৃক গাড়ী সংকট দেখিয়ে রিজার্ভের নামে পটিয়া পর্যন্ত ২০ টাকার ৫০ থেকে ১০০ টাকা। খরনা, রওশনহাট, গাছবাড়িয়া কলেজ গেইট পর্যন্ত ৩০ টাকার ভাড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। দোহাজারী, মৌলভীর দোকান ও কেরানীহাট পর্যন্ত ৪০-৫০ টাকার ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত সময় সুযোগে আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সড়ক ও পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি সম্প্রতি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মন্ত্রীর আদেশ কোনভাবে মান্য করছেনা চালক ও হেলপাররা। বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাত্রী সাধারণের সাথে চালক ও হেলপারদের বিভিন্ন সময় বাড়াবাড়ি, হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। অনেকটা জিম্মি যাত্রী ও বাধ্য হয়ে দ্বিগুন থেকে তিনগুন ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে ছুটতে হয় যাত্রীদের। কেউ কেউ আবার ছোট ছেলেমেয়ে মহিলাদের নিয়েও এ অসস্তিতে পড়েছে। পটিয়া জেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আহমদ নুর, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কিবরিয়া বাবুল, সাবেক কমিশনার নুরুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও তারা কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। তাছাড়া হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশ গাড়ির কাগজপত্র দেখার নামে ব্যাপক চাঁদাবাজী চলার ও অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয়, স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা রহস্যজনক। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের জন্য দক্ষিণ চট্টগ্রামের লক্ষ লক্ষ যাত্রীগন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য করুন